হুমায়ূন আহমেদ

অনলাইন ডেস্কঃনন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের চিত্রকর্ম আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় রুমা চৌধুরী ও তার স্বামী মঞ্জুরুল আজিম পলাশকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি হয়েছে। গতকাল ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন এ মামলার পুলিশ প্রতিবেদন আমলে নিয়ে তাদের আগামী ২৫ অক্টোবর আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী ২০১২ সালে ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য আমেরিকার নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকায় গিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। সেখানে ছেলে নিষাদকে নিয়ে বেশ কিছু ছবি এঁকেছিলেন তিনি। ওই সময়ে রুমা চৌধুরী ও তার সাবেক স্বামী বই ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ সাহার সাথে তার পরিচয় হয়। সেই সূত্রে হুমায়ূন আহমেদ প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে তার আঁকা ২৪টি ছবি তাদের দেন। যেগুলো ২০১২ সালের জুন মাসে রুমা চৌধুরীর জিম্মায় দেয়া হয়। শর্ত ছিল প্রদর্শনী শেষে তারা ছবিগুলো হুমায়ূন আহমেদের কাছে ফেরত দেবেন।

কিন্তু প্রদর্শনীর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে রুমা ও বিশ্বজিৎ ছবিগুলো বিক্রির তৎপরতা শুরু করে। এ বিষয়ে তারা বারবার হুমায়ূন আহমেদকে প্রস্তাব দিলেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ছবিগুলো তিনি এঁকেছেন তার নিজের এবং পুত্র নিষাদের আনন্দের জন্য। বিক্রি করে অর্থ লাভের জন্য নয়। একপর্যায়ে রুমা চৌধুরী গুজব রটান প্রদর্শনীর ২৪টি ছবির মধ্যে চারটি ছবি হারিয়ে গেছে।

ছবি: সংগৃহীত

লেখকের মৃত্যুর পর ছবিগুলো উদ্ধারের জন্য ২০২১ সালের ২৯ জুন আদালতে মামলা করেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সম্প্রতি ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে আদালতে মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআই প্রতিবেদন দাখিল করে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর শাওন দেশে ফিরে আসেন। তিনি রুমা চৌধুরী ও বিশ্বজিৎ সাহার কাছে ছবিগুলো ফেরত চান। বারবার চাওয়া সত্ত্বেও তারা ছবিগুলো ফেরত দিতে টালবাহানা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে অভিনেতা ও তৎকালীন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তির সহায়তায় তারা ২০টি ছবি ফেরত দেন হুমায়ূন আহমেদের মা আয়েশা ফয়েজের জিম্মায়।

Bangladeshpost24.com

Previous articleরানির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আগে শেখ হাসিনা-শেখ রেহানার সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রপতি
Next articleরাবিপ্রবির প্রথম নারী ভিসি হলেন ড. সেলিনা আখতার