Home শিরোনাম সুন্দরবনে মধুর বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত মৌয়ালরা

সুন্দরবনে মধুর বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত মৌয়ালরা

মধু আহরণ

বাংলাদেশ পোষ্ট ২৪ ডটকমঃ অনাবৃষ্টি ও সঠিক সময়ে সুন্দরবনের গাছগাছালিতে ফুল না ফোটায় মধু পাওয়া যাচ্ছে না। তাই অনেকটা খালি হাতেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন মৌয়ালরা। তারা বলছেন, মধু নেই, তাই এ বছর আর বনে যাবেন না। তবে সামনে বৃষ্টিপাত হলে বনে ফুল ও মধু পাওয়া যাবে বলে আশা করছে বনবিভাগ।

সুন্দরবন থেকে ফিরে আসা মৌয়ালরা জানান, ১৪ দিনের পাশ নিয়ে গত ১ এপ্রিল বনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। এবার বনবিভাগের দ্বিগুণ রাজস্বসহ নৌকা ভাড়া, খাবারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয় ও সবমিলে দলের একজন সদস্যের খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। কিন্তু মধু না পেয়ে প্রথম চালানেই লোকসানে পড়েছেন তারা। এ অবস্থায় মহাজনদের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের টাকা পরিশোধ করা নিয়ে তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। এমনকি বনে যাওয়ার মতো হাতে টাকা না থাকায় এবার দ্বিতীয়বার আর বনে যাবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মৌয়ালদের অনেক দল।

শরণখোলা উপজেলার খুড়িয়াখালী গ্রামের মৌয়াল ইউসুফ মুন্সী জানান, ‘প্রথম গোনে (১৪ দিনে) তার ১০ জনের দলে মধু পেয়েছি মাত্র ১৭ কেজি। জনপ্রতি ভাগে পেয়েছে এক কেজি ৭০০ গ্রাম করে। গত তিন যুগে সুন্দরবনে মধুর এমন বিপর্যয় দেখিনি।’

সাউথখালী ইউনিয়নের জলেরঘাট গ্রামের মৌয়াল নূর ইসলাম ফরাজী, ইব্রাহীম বেপারী, রিয়াদুল ফরাজী বলেন, ‘আগে বনের এক থেকে দেড় কিলোমিটার এলাকা খুজলেই ৪ থেকে ৫টি মৌচাক পাওয়া যেতো। একেকটি মৌচাক থেকে ১০-১২ কেজি মধু পেয়েছেন তারা। কিন্তু এবার মাইলের পর মাইল হেঁটেও মৌচাক চোখে পড়ে না। বনে ফুলের সংখ্যাও কম দেখা গেছে। দুই-একটি ছোট মৌচাক পাওয়া গেলেও তা ভেঙে দুই থেকে তিনশ’ গ্রাম করে মধু মিলেছে।’

খুড়িয়াখালী গ্রামের মধু ব্যবসায়ী রাসেল আহমেদ বলেন, ‘এবার এক লাখ টাকা মৌয়ালদের দিয়েছি। যে সংবাদ পাই তাতে চালান ফিরবে কিনা তা দুশ্চিন্তায় আছি।’

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, ‘এ বছর প্রথম গোনে (১ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল) শরণখোলা স্টেশন থেকে ৭৬টি দলকে মধু আহরণের পারমিট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি দল তাদের পাশ জমা দিয়েছে। কিছু কিছু দল ফিরে এলেও অনেকেই বনে রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গত দুই বছর সুন্দরবন অঞ্চলে এমন সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হচ্ছে না। এ কারণে বনের গাছগাছালিতে ফুল আসলেও তা শুকিয়ে ঝরে যায়। ফলে মৌমাছি ও কীটপতঙ্গের খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয়। তাই মধু না পেয়ে মৌমাছিও আসে না। গত বছরও প্রথম দিকে এমন পরিস্থিতি হয়েছিল। কিন্তু শেষের দিকে ভালোই মধু পাওয়া গেছে। সামনে বৃষ্টিপাত হলে বনে ফুল এবং মধু পাওয়া যাবে।’

সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ‘পূর্ব সুন্দরবনে এ বছর এক হাজার ৫০ কুইন্টাল মধু এবং ৩৫০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্য নিয়ে শরণখোলা, চাঁদপাই, ঢাংমারী ও জিউধরা স্টেশন থেকে ১২৭টি পাশ দেওয়া হয়েছে। ৩০ জুন পর্যন্ত মধু আহরণ চলবে। প্রথম চালানে মধু কম হলেও মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কম বা বেশির হিসাব এখনই নির্ধারণ করা যাবে না।’

bangladeshpost24.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here