বাংলায় সংবাদ 🔊

অনলাইন ডেস্কঃ নিত্যপন্যের দুষ্প্রাপ্যতা, জ্বালানি সংকট, অতিরিক্ত ব্যয়ে বহনে নাজেহাল শ্রীলঙ্কায় বিদ্যুতের রেকর্ড ২৬৪ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে । সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা পাবলিক ইউটিলিটি কমিশন অব শ্রীলঙ্কা (পিইউসিএসএল) বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন দেয়। গেলো নয় বছরের মধ্যে এবারই প্রথম বিদ্যুতের দাম বাড়ালো শ্রীলঙ্কা। এতে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রায়ত্ব বিদ্যুৎ সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান সিলন ইলেকট্রিসিটি বোর্ডের (সিইবি) ৬১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের লোকসান অনেকটা কমে আসবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে দেশটিতে গৃহস্থলি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ২ দশমিক ৫০ শ্রীলঙ্কান রুপি। দামে বাড়িয়ে তা করা হলো প্রতি ইউনিট ৮ রুপি। শ্রীলঙ্কায় ৮৭ লাখ বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। এর দুই তৃতীয়াংশ গ্রাহকের মাসে ৯০ কিলোওয়াটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়। এদের ক্ষেত্রেই মূল্যবৃদ্ধির হার বেশি হয়েছে।

দেশটিতে বড় ভোক্তারা বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কেনেন ৪৫ রুপিতে। নতুন দামে বিদ্যুৎ কিনতে তাদের দিতে হবে ইউনিট প্রতি ৭৫ রুপি। মূল্যবৃদ্ধির হারে শ্রীলঙ্কার বড় ভোক্তাদের তুলনায় ছোট ভাক্তাদের বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির হার বেশি।

অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সুপারিশে আরো বেশি হারে বাড়ানোর সুপারিশ থাকলেও সে সুপারিশ মানে নি পিইউসিএসএল। ৮০০ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের জায়গায় মূল্যবৃদ্ধির হার ২৬৪ শাতাংশে সীমাবদ্ধ রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

পিইউসিএসএলের চেয়ারম্যান জানাকা রথনায়েক শ্রীলঙ্কান সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে তিনি বলেন, ‘গত ৯ বছরে সব ধরনের পণ্য ও সেবার দাম বেড়েছে।বিশেষত বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হওয়া জ্বালানির দাম ২৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অপরদিকে ডলারের দাম বেড়েছে ১৯০ শতাংশ। এই সময়ের মধ্যে বিদ্যুতের দাম স্থিতিশীল ছিল। এ পরিস্থিতিতে ক্রমাগত লোকসান এড়াতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে।’

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেখা দেওয়া ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের রেশ গিয়ে লেগেছে শ্রীলঙ্কার জনজীবনে, রাজনীতিতে। তুমুল বিক্ষোভের মুখে সম্প্রতি পদত্যাগ ও দেশ ছাড়তে বাধ্য হন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকশে। তিনি এখন সিঙ্গাপুরে রয়েছেন। এর আগে বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন তাঁর ভাই মাহিন্দা রাজাপাকশে।

গণবিক্ষোভের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এখন তাঁর নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে নতুন সরকার। এ সরকার অর্থনৈতিক সংকট দূর করার চেষ্টা করছে। দেউলিয়া হয়ে পরা শ্রীলঙ্কা জোর চেষ্টা চালাচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ’র কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার।

 

Bangladeshpost24.com

 

Previous articleজনবিচ্ছিন্নদের ৭ দলীয় জোট রাজনীতিতে গুরুত্বহীন -তথ্যমন্ত্রী
Next articleকক্সবাজারের উখিয়া শরণার্থী শিবিরে গুলিতে দুই রোহিঙ্গা মাঝি নিহত