অনলাইন ডেস্কঃ রাজশাহীর পবা উপজেলার হাড়ুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার নির্দেশে এক সহকারী শিক্ষিকাকে কান ধরিয়ে উঠবস করানোর অভিযোগের তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। এ ঘটনায় দুই শিক্ষিকাকেই বদলির সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে জমা দিয়েছে জেলা শিক্ষা অফিস।

মঙ্গলবার (২০শে সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম।

সাইদুল ইসলাম জানান, সহকারী ওই শিক্ষিকাকে কান ধরে ওঠবস করানোর সত্যতা পাওয়া গেছে। আবার প্রধান শিক্ষিকার ছবি দিয়ে টিকটক বানানোর বিষয়টিও কয়েকজন শিক্ষক দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে তাদের কেউই আলামত সংরক্ষণ করেন নি। তাই দুটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুজনকেই অন্যত্র বদলির সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে, বিষয়টি এখন তাদের বিবেচনাধীন।

এ ঘটনায় বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, প্রধান শিক্ষিকা আমার সঙ্গে অন্যায় করেছেন। বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেও এখনও কিছুই হয় নি। প্রধান শিক্ষিকা এখনও বিভিন্নভাবে আমাকেসহ আরও কয়েক জনকে চাপের মুখে রেখেছেন। অভিভাবকদের সামনে আমাকে বিভিন্নভাবে অপমান করেছেন। আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।

তবে ওই প্রতিষ্ঠান প্রধান নাজমা ফেরদৌসী বলেন, ওই শিক্ষিকা ভুক্তভোগী নয়, আমি নিজেই ভুক্তভোগী। আমি জীবনে কখনও ফেসবুকে ছবি দেই না। কিন্তু আমার ছবি ব্যবহার করে অশালীন, নোংরা টিকটক বানানো হয়েছে।

সাংবাদিকরাও একতরফাভাবে ছবি বিকৃত করে নিউজ করেছে। এটা নিয়ে আমি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছি। তদন্ত প্রতিবেদন বিষয়ে কিছু বলতে চান না বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে পবা উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমরা বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান চাইছি। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিকে চেয়ে আছি। ’

প্রসঙ্গত, গত ২১ আগস্ট হাড়ুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা ফেরদৌসী ও তার স্বামীর নেতৃত্বে ওই সহকারী শিক্ষিকাকে কান ধরে ওঠবস করানো হয়।

পরে ২৪ আগস্ট স্কুলের জমিদাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আজিজের সামনে হেনস্তার অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এরপরই ভুক্তভোগী শিক্ষিকার কান ধরে ওঠবস করার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশ পেলে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। এর প্রেক্ষিতে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

 

Bangladeshpost24.com

Previous articleসংকটে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণঃ প্রধানমন্ত্রী
Next articleবন্যা বিপর্যস্ত পাকিস্তানে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি