Home প্রতিবেদন - মতামত - কলাম ল্যানসেটের গবেষণা: করোনা থেকে সেরে ওঠার দুই বছর পরও থাকছে ধকল

ল্যানসেটের গবেষণা: করোনা থেকে সেরে ওঠার দুই বছর পরও থাকছে ধকল

বাংলাদেশ পোষ্ট ২৪ ডটকম: করোনার সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠার পরও নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভোগার তথ্য এখন জানা। অনেকের ক্ষেত্রে এই উপসর্গ হালকা, কারও ক্ষেত্রে গুরুতর। বিশ্বে করোনার সংক্রমণ কমে এলেও এখন জানা যাচ্ছে করোনার সংক্রমণ মানবদেহে কত দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বলা হচ্ছে, করোনা থেকে সেরে ওঠার দুই বছর পরও নানা জটিলতায় ভোগার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্বখ্যাত দ্য ল্যানসেট রেসপিরেটরি মেডিসিন সম্প্রতি এ–সংক্রান্ত একটি ফলোআপ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বলে এনডিটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ল্যানসেটের গবেষণায় বলা হয়েছে, তথ্য-প্রমাণ বলছে, করোনা থেকে সেরে ওঠা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গে নানা জটিলতাসহ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থেকে যাচ্ছে। করোনা সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠার দুই বছর পরও অন্তত একটি জটিলতায় ভুগতে পারে মানুষ। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ ব্যক্তির শরীরে করোনার যেকোনো একটি উপসর্গ লক্ষ করা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, তা হলো—ক্লান্তি ও পেশির ব্যথা।

গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা সংক্রমণের কারণে অসংখ্য মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। তাদের অনেকেই সংক্রমণ কাটিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু এই বাড়ি ফেরাতেই বিপদ কমে যাচ্ছে না। সংক্রমণ কাটিয়ে ওঠার প্রায় দুই বছর পরও বেশ কিছু উপসর্গ শরীরে থেকে যাচ্ছে। এর মধ্যে প্রধান হলো—ক্লান্তি, দুর্বলতা, পেশি ব্যথা, ঘুমের সমস্যা, শারীরিকভাবে ঝিমিয়ে পড়া ও শ্বাসকষ্ট। কোভিড থেকে সেরে ওঠার পরও এই ধরনের শারীরিক সমস্যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

ল্যানসেট বলছে, প্রাথমিকভাবে করোনা যতই ভয়াবহ হোক না কেন, অনেকেই এই করোনার সংক্রমণ কাটিয়ে উঠে এখন শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠেছে। দুই বছরের মধ্যে অনেকেই স্বাভাবিক কাজেও ফিরেছে। তবে করোনা সংক্রমণ–পরবর্তী জটিলতা এখন অনেককেই ভোগাচ্ছে।

এ গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন বেইজিংয়ের চীন-জাপান ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। তাঁরা বলছেন, গত দুই বছরে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষের চেয়ে করোনাজয়ীদের শারীরিক অবস্থা অপেক্ষাকৃত খারাপ ও দুর্বল। সে ক্ষেত্রে গবেষণায় দেখা গিয়েছে, করোনার দীর্ঘকালীন ধকল ও ঝুঁকি কমাতে লং কোভিডের প্যাথোজেনেসিস খুঁজে বের করে তার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। লং কোভিডের প্রভাব দুই বছরেরও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। এটা উদ্বেগজনক। তাই করোনা থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তিরা কত দিন পর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন, তা নিশ্চিত করার জন্য করোনার প্রাকৃতিক ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করা অত্যন্ত জরুরি।

গবেষকেরা বলছেন, ভবিষ্যতে লং কোভিডের প্যাথোজেনেসিস নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা করতে হবে এবং করোনার ঝুঁকি কমাতে কার্যকর হস্তক্ষেপের কৌশল তৈরি করতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ এপ্রিলের শেষের দিকে জানিয়েছে, সেখানে করোনার সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের প্রতি চারজনের একজন গত এক বছরে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছেন। এর অর্থ এখনো অনেক রোগী পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি।

এই গবেষক দলের সহদলনেতা দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার রিসার্চের র‌্যাচেল ইভান্স বলেছেন, এই গবেষণায় করোনাজয়ীদের উপসর্গ, মানসিক স্বাস্থ্য, ব্যায়ামের ক্ষমতা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের দুর্বলতা এবং জীবনযাত্রার মান নিয়ে গত পাঁচ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

গবেষক দলের আরেকজন সহদলনেতা লিচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিস্টোফার ব্রাইটলিং বলেন, কার্যকর চিকিৎসা ছাড়া লং কোভিডের প্রভাব একটি নতুন দীর্ঘমেয়াদি সংকট হয়ে উঠতে পারে।

bangladeshpost24.com

Previous articleচট্টগ্রামে ঋণের গতি ‘অস্বাভাবিক’
Next articleথাইল্যান্ডকে উড়িয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ