অনলাইন ডেস্কঃ রাজনীতিবিদদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারি আমলাদের হাতে দলের নেতৃত্ব তুলে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার বিকালে মহাখালীতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “আপনারা লক্ষ্য করেছেন, আজকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদদের হাতে কোনো নেতৃত্ব নাই, যারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন তাদের হাতে কি কোনো নেতৃত্বে আছে? নাই।”

“ওদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব আজকে তারা সরকারি কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দিয়েছে।”

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে আমীর খসরু বলেন, “আওয়ামী লীগের নেতা কে? চট্টগ্রামের ডেপুটি কমিশনার আওয়ামী লীগের নেতা। নামটা মনে রাখবেন মোহাম্মদ মোমিনুর রহমান। আওয়ামী লীগের নেতা কে? হাইকোর্টের জজ গাইবান্ধাতে ভোট চাইতে গেছেন তিনি হচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতা।

“পল্লবীতে রফিক মোল্লা হচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতা। আওয়ামী লীগের নেতা হচ্ছে ভোলায় আমাদের নেতা নুরে আলম-আব্দুর রহিমকে যে গুলি করে মেরেছে সে আওয়ামী লীগের নেতা, যে কি না জনগণের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে সে হচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতা।”

তিনি বলেন, “পুলিশের একাংশ, একটি ক্ষুদ্রাংশ যারা আওয়ামী লীগের নেতা হয়ে গেছেন অথবা নেতা হয়ে যুদ্ধ করছেন। আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি আপনারা ওই পথে যাইয়েন না। ওই কাজ আপনাদের জন্য নয়।”

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে জ্বালানি তেল, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ভোলায় নুরে আলম, আব্দুর রহিম ও নারায়ণগঞ্জের শাওন প্রধান ‘হত্যার’ প্রতিবাদে এ সমাবেশ হয়।

‘আওয়ামী লীগের সময়ে সঠিক নির্বাচন হয়’, বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, ‘‘যে কথাটা উনি বলেছেন, বাংলাদেশের একটা লোক এটা বিশ্বাস করবে? আপনারা বিশ্বাস করেন? না, সরকারি দলের লোকেরা বিশ্বাস করে?”

‘গুম’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যও সঠিক নয় বলে অভিযোগ বিএনপির এই নেতার।

সরকার পতন না হওয়া পর্য্ন্ত আন্দোলন চলবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের এই আন্দোলন শুধু বিএনপির আন্দোলন নয়, আমাদের এই আন্দোলন দেশের ১৮ কোটি জনগণের আন্দোলন। আমাদের সাথে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজ যারা সম্পৃক্ত হয়েছে তাদের আন্দোলন। এজন্য আগামী দিনে এই আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।”

সমাবেশে গত শনিবার বনানীতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচিতে হামলায় আহত তাবিথ আউয়ালও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, যতই না মাথা ফাটুক, যতই না আমাদের হাত ভাঙ্গুক বিএনপির প্রত্যেকটা নেতা প্রত্যেকটা কর্মী এখনও মাঠে আছে, মাঠে থাকবে।”

মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আমিনুল হকের পরিচালনায় সমাবেশে মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, কামরুজ্জামান রতন, মীর সরফত আলী সপু, নাজিম উদ্দিন আলম, শামীমুর রহমান শামীম, কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, সাইফুল আলম নিরব বক্তব্য রাখেন।

Bangladeshpost24.com

Previous articleওয়েলিংটন আর্চ থেকে উইন্ডসরের পথে রানির শবমিছিল
Next articleশিরোপাজয়ী দলের ৩ সদস্যকে পুরস্কার দেবেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক