ফাইল ফটো

অনলাইন ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রে ৭০টি সিনেমা হলে মুক্তি পাচ্ছে বহুল আলোচিত বাংলা সিনেমা পরাণ। ইতিমধ্যে ৬০টি হল চূড়ান্তও হয়ে গেছে।

সিনেমাটি এ-যাবৎকালে আমেরিকায় নিয়ে আসা বাংলা সিনেমার মধ্যে সবচেয়ে ভালো ব্যবসা করবে বলে প্রত্যাশা করছেন বায়োস্কোপ ফিল্মস ইউএসএর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আকতার হামিদ রাজ। তার মতে, এটি ভীষণ আলোচিত ও চমৎকার একটি সিনেমা। যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগেই এটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক চাহিদা তৈরি করেছে। এ পর্যন্ত যে ২৬টি সিনেমা এখানে এনেছেন, তার মধ্যে পরাণ সবচেয়ে ভালো ব্যবসা করবে বলে তার আশা।

 

প্যান্ডামিকের সময় দুই বছর সিনেমা আনা সম্ভব হয়নি। কারণ সব বন্ধ ছিল। এখন আবার উদ্যোগ নিয়েছি। আকতার হামিদ রাজ  বলেন, এখানকার দর্শকেরা হাই ডেফিনেশনের সিনেমা দেখে। এ জন্য আমাদেরকে তাদের ভালো লাগার বিষয়টি খেয়াল রাখতে হয়।
রাজ হামিদ আরো বলেন, আমরা শখের বশেই বায়োস্কোপ ফিল্মস ইউএসএ প্রতিষ্ঠা করেছি। ভুবন মাঝি দিয়ে দুটি শহরে যাত্রা শুরু করেছিলাম। এখন ৫৫টি শহরে সিনেমা মুক্তি দিচ্ছি। মূলত ডিস্ট্রিবিউশন সমস্যার কারণে এখানে সিনেমা আসত না। আমরা যখন কাজ শুরু করলাম, তখন দেখলাম এটি অনেক কঠিন কাজ নয়। আমরা প্রযোজকদের পুরো অর্থ দিয়েই এখানে সিনেমা আনি।
তিনি বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রে যেসব ছবি এনেছি, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেবী, ভুবন মাঝি, ফাগুন হাওয়া, এক যে ছিল রাজা, বিজয়া, বিনি সুতোয়, মিশন এক্সিম, যদি একদিন, সাপলুডু, স্ফুলিঙ্গ, রিক্সা গার্ল প্রভৃতি। আমরা রিক্সা গার্ল সিনেমাটি ৫৫টি শহরে দেখিয়েছিলাম।

রাজ বলেন, আমরা প্রডাকশনেও গিয়েছি। কলকাতার নতুন একজন মেয়ে পরিচালককে দিয়ে সিনেমা তৈরি করেছি। এটিও এখানে নিয়ে আসব। কৌশিক শংকর দাসের পরিচালনায় বাংলাদেশে একটি সিনেমার কাজ ১৯ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে। এটি নির্মাণের পর এখানে নিয়ে আসব। আমরা যুক্তরাষ্ট্রেই বাংলা সিনেমা তৈরি করার চিন্তাভাবনা করছি, যাতে এখান থেকে বাংলা ছবি তৈরি করে দেশে পাঠাতে পারি। আমাদের তৈরি সিনেমা বাংলাদেশের দর্শকেরা মোবাইল ফোনেও দেখতে পারবেন। আমরা চাইছি সিনেমার বাজার এখানে ও দেশে আরো প্রসারিত হোক। চেষ্টা করব ওয়েব সিরিজ ও টেলিফিল্মের মতো ৮০ মিনিটের মধ্যে সিনেমার দৈর্ঘ্য ধরে রাখতে।

রাজ হামিদ বলেন, আমরা কলকাতার কয়েকটি সিনেমাও এখানে এনেছি। এর মধ্যে সর্বশেষ সিনেমা ছিল ‘অপরাজিত’। ছবিটি বেশ ভালো চলেছে। এটি সত্যজিৎ রায় পথের পাঁচালী তৈরি করার সময়ে করেছেন। সত্যজিৎ রায়ের পথের পাঁচালী ছবিটি ১৯৫৫ সালে ম্যানহাটনে প্রথম প্রদর্শিত হয়েছিল। এ কারণেই আমরা অপরাজিত সিনেমাটির প্রিমিয়াম প্রদর্শনী করি ম্যানহাটনে।
তিনি বলেন, আমার স্ত্রী বায়োস্কোপ ফিল্মস ইউএসএর নামকরণ করেছিলেন। এরপর আমরা বায়োস্কোপ ফিল্মস কানাডায় আত্মপ্রকাশ করেছি। এখন বায়োস্কোপ ফিল্মস দুবাই করতে যাচ্ছি। এ ছাড়া আমেরিকার যত স্টেটে ছবি নিয়ে যাচ্ছি, সবখানেই একটি করে বায়োস্কোট ফিল্মস করা হচ্ছে। আমাদের ফিল্মে বাংলাদেশি কমিউনিটির ঘটনাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

আকতার হামিদ রাজ বলেন, সিনেমা একটি অনেক বড় শক্তিশালী গণমাধ্যম। আমেরিকায় নারীদের পিছিয়ে থাকাসহ বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে ফিল্ম। বাংলাদেশি সিনেমা এখানে প্রদর্শন করার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। আশা করছি, আস্তে আস্তে এখানে বাংলা সিনেমার একটি বড় বাজার হবে।
তিনি বলেন, আমরা মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার এমপিএ নিয়েছি। আমাদেরটি রেজিস্টার্ড ও সদস্য কোম্পানি। এখানে যে ফরম্যাটে সিনেমা আনি, এটি সিনেমা হল ছাড়া অন্য কোথাও প্রদর্শন করার সুযোগ নেই। সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই আমরা সিনেমা নিয়ে আসি। যে ছবি আমরা রিলিজ দিই, এর একটি কোয়ালিট কন্ট্রোল করেই রিলিজ দিই।

Bangladeshpost24.com

Previous articleদেশে ফিরেই নারী ফুটবলারদের পুরস্কার দেবেন প্রধানমন্ত্রী
Next articleজুম ব্যবহারে যেসব সতর্কতা মানতে হবে