অনলাইন ডেস্কঃ ১৫ ই আগস্ট বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে সবচেয়ে কলঙ্কময় একটি দিন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার ১৫ ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে কৃষকলীগ আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, আলোচনা সভায় ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আলোচনায় ইতিহাসের জঘন্যতম হামলার সময় নিরাপত্তার কারণে বিদেশের মাটিতে নিজেদের নাম পরিচয়ও প্রকাশ করা যায় নি বলে আক্ষেপ করেন সরকার প্রধান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার কখনও ক্ষমতা পদ-পদবীর লোভ ছিলো না। তিনি ধাপে ধাপে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।
জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়তে মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবাক লাগে যে বাঙ্গালীর জন্য এতো কিছু করলেন সেই বাঙ্গালীর হাতেই বঙ্গবন্ধুকে জীবন দিতে হলো।
একটা প্রদেশ রাষ্ট্রে উন্নিত হচ্ছে, একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত ধ্বংসস্তুপ সেখানে দাঁড়িয়ে যিনি কাজ শুরু করেছেন তখন সেখানে দোষ ধরার খুঁত ধরার কি আছে প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, সবাই মিলে দেশ গড়ে তোলার কাজ না করে শুরু করা হলো সামলোচনা মিথ্যা অপবাদ অপপ্রচার করা।ঘাতকের দল বুঝতে পেরেছিলো যেভাবে দেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো তা বাস্তবায়ন হলে বঙ্গবন্ধুকে কখনও ক্ষমতা থেকে সড়ানো যাবে না তখনই তারা চরম আঘাতটি হেনেছে।
জাতির পিতাকে হত্যার পর দেশের কি উন্নতি হয়েছে সে প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন জাতির পিতাকে হত্যার পর জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হলো দেয়া হয়েছিলো মার্শাল “ল”। ৭৫ পরবর্তি সময়ে সামরিক শাসকরা এসে নির্বাচনী ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে দেয়। তাদের হ্যা না ভোট, তাদের ক্ষমতায় বসে দল গঠন করা, দল গঠনের মাধ্যমে অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধ করতে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিতে সেজন্যই ভোট চুরি কারচুপির প্রকৃয়া শুরু-বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খন্দকার মোস্তাক ছিলো জাতির পিতার হত্যাকারি তারই দোসর ছিলো জিয়াউর রহমান এটা প্রমাণিত কারণ তার সাথে ছিলো বলেই মোস্তাক জিয়াকে সেনাপ্রধান করেছিলো। জিয়াউর রহমানের ইনডিমনিটি অধ্যাদেশের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে স্বাধীনতার আদর্শ ও লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতি হয়ে যায়।
আওয়ামী লীগ সরকার খাদ্যের উদ্বৃত্ত রেখে গেলেও তখনকার বিএনপি সরকার দেশের খাদ্য ঘাটতি রেখে মানুষকে ভিক্ষুক জাতি হিসেবে বিশ্বে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কাজ করেছে। বিএনপি খাদ্য কিনবে ব্যবসা করবে এটা তাদের কাজ ছিলো বলেন সরকার প্রধান।
বিএনপি বাংলাদেশকে অস্ত্র চোরা কারবারির জায়গা, সন্ত্রাসীর দেশ, জঙ্গীবাদ সৃষ্টির দেশ, বাংলাভাই সৃষ্টির দেশ করেছিলো-বলেন প্রধানমন্ত্রী।বিষ্ময় প্রকাশ করেন, সামরিক শাসকরা ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট ছিটিয়ে যে দল গঠন করেছিলো তাদের কাছে এখন নানা রকম নীতির কথা শুনতে হয়।
রাশিয়া ইউক্রেইন যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে মূদ্রাস্ফীতি চলছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন উন্নত দেশগুলো যেখানে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বাংলাদেশ। দেশে খাদ্য সংকট যাতে না হয় অনাবাদী জায়গায় কৃষি কাজ করতে আবারো আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
সরকার প্রধান বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে পৃথিবীর প্রত্যেকটা দেশে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বাংলাদেশ সরকারও আগাম ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে ভবিষ্যতে যাতে আমরা বিপদে না পরি। যারা হারিকেন নিয়ে আন্দোলন করছে তাদের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন দেশের মানুষকে আওয়ামী লীগ সরকার নিরাপত্তা দেবে। কারো কাছে যাতে হাত পেতে না চলতে হয় সেভাবেই পরিকল্পনা করে দেশ পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান শেখ হাসিনা।

bangladeshpost24.com

Previous articleনামাজের হিসাব আমি মানুষকে দেব কেন: সানাই
Next articleঅবশেষে খুলে দেওয়া হলো নিউজিল্যান্ডের সীমান্ত