আশ্রয়ণ প্রকল্প

বাংলাদেশ পোষ্ট ২৪ ডটকম: মুজিববর্ষে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত ইচ্ছা এটি। আর সে ইচ্ছা বাস্তবায়ন হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে। গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য সারাদেশে তৈরি হচ্ছে ঘর। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে ১ লাখ ১৭ হাজার ২৯টি ঘর নির্মাণের পর তৃতীয় ধাপে নির্মাণাধীন একক ঘরের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৬৭৪টি। এর মধ্যে ৩২ হাজার ৯০৪টি হস্তান্তর হচ্ছে আজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে দেশের চার উপজেলায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব ঘর হস্তান্তর করবেন। ফলে আরও দেড় লাখেরও বেশি মানুষ পেতে যাচ্ছে নিজের স্থায়ী একটি ঠিকানা।

মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের পোড়াদিয়া বালিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প, বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের খাজুরতলা আশ্রয়ণ প্রকল্প, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের খোকশাবাড়ী আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারার বারখাইন ইউনিয়নের হাজিগাও আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরাসরি গণভবন থেকে যুক্ত হবেন। তিনি একে একে এই চার উপজেলায় গৃহহীন মানুষদের হাতে ঘরের দলিল তুলে দিবেন। এছাড়া তিনি উপকারভোগী মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন এবং তাদের কথা শুনবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া জানান, এই যে ঘর দেওয়া হচ্ছে এগুলো স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে দেওয়া হচ্ছে। যার স্বামী নেই সেক্ষেত্রে স্ত্রীর নামে দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যে প্রায় ৩৩ হাজার ঘর হস্তান্তর করবেন তাতে প্রায় দেড় লাখ মানুষ যাদের একটি ঠিকানা ছিল না, দাঁড়ানোর জায়গা ছিল না, তারা একদিনে আশ্রয় পাবে।

ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে আশ্রয়ণ নামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যা প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। রঙিন টিনশেডের প্রতিটি একক ঘরে ইটের দেয়াল, কংক্রিটের মেঝে এবং টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি দুটি করে শোবার ঘর, একটি রান্নাঘর, টয়লেট এবং সামনে খোলা বারান্দা রয়েছে।

এই প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি ৬০ হাজার ১৯১টি ঘর, ২০ জুন ৫৩ হাজার ৩০০টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায় থেকে তৃতীয় ধাপের এ ঘরগুলোর নকশা ও পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। যার ফলে ঘরগুলো অধিক টেকসই ও দুর্যোগ সহনীয় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে প্রতিটি ঘর নির্মাণে বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৯০ হাজার টাকা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, গৃহহীন মানুষের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর আওতায় তৃতীয় ধাপের নির্মিত ঘরগুলো আরও মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইটের ভিত ও কলামের পরিবর্তে এবার ব্যবহার করা হচ্ছে আরসিসি ঢালাইয়ের গ্রেট বিম ও কলাম। ঘরের চালা মজবুত করতেও কাঠামো নির্মাণে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

আগের দুই পর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতায় মুজিববর্ষের উপহারের এসব ঘরকে অধিকতর টেকসই করতে নকশায় আনা হয়েছে পরিবর্তন। জমি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও নেওয়া হচ্ছে বিশেষ সতর্কতা। নতুন একক গৃহ নির্মাণের ব্যয় বরাদ্দও বেড়েছে। প্রথম দুই ধাপের বাড়িতে বেশ কিছু ত্রুটি পেয়েছে সরকার। বর্ষার শুরুতেই কয়েকটি স্থানে ঘর ভেঙে পড়ে, কোথাও দেয়াল ফেটে যায় আর মাটি দেবে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

যেসব কারণে এ ধরনের ত্রুটি হয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমস্যাগুলো সমাধান করেই তৃতীয় ধাপে বাড়িগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। তৃতীয় ধাপে বাড়ি প্রতি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার টাকা।

টেকসই ঘর তৈরির জন্য সাতটি নির্দেশ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে—শুধু বাড়ি নির্মাণের উপযোগী উঁচু জমিতে অনুমোদিত নকশা অনুসরণ এবং গুণগত মান নিশ্চিত করার পর নির্মাণকাজ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নতুন ভরাট করা মাটি, নরম মাটি, খাল-জলাশয় ও নদীর তীর এবং নিচু জায়গায় বাড়ি নির্মাণ করা যাবে না। নিবিড় তদারকির মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে প্রতিটি কাজ। মূল ঘর, রান্নাঘর, বারান্দাসহ বাড়ির বিভিন্ন অংশের আয়তন সঠিক রাখতে হবে। প্রতিটি বাড়ির অনুকূলে দুই শতাংশ জমি নিশ্চিত করতে হবে। গাইডওয়ালের প্রয়োজন হবে, এমন স্থানে বাড়ি নির্মাণ করা যাবে না।

এ ছাড়া দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রতিটি বাড়ির ফাউন্ডেশন, পিলার-বারান্দার কলাম, বিম, লিন্টেল, সানশেডে রড স্থাপন, ঢালাই, ইটের গাঁথুনি, কিউরিং, কাঠের ফ্রেম এবং নির্ধারিত পুরুত্বের টিন লাগানোর কাজ নিশ্চিত করতে হবে। ঢালাই কাজের সিমেন্ট, বালু ও খোয়ার অনুপাতসহ গুণগতমান প্রাক্কলন অনুযায়ী সম্পাদন করতে হবে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নকশা অনুযায়ী দরজা-জানালা তৈরির পর রেড অক্সাইড প্রাইমার দিতে হবে। এরপর দিতে হবে এনামেল পেইন্ট। তিন বস্তা বালুর সঙ্গে এক বস্তা সিমেন্ট মিশিয়ে প্লাস্টার করতে হবে। বাড়ির রং করতে হবে দেয়ালের প্লাস্টার সঠিকভাবে শুকানোর পর। স্যানিটারি ও নামফলক স্থাপনের কাজ শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।

শুধু ঘর নয় উপকারভোগীদের পুনর্বাসনের পর বেশ কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। এর মধ্যে আছে—ভিজিএফ সুবিধা প্রদান, প্রশিক্ষণ প্রদান, সমবায় সমিতি গঠন, ঋণ প্রদান, কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ, পুকুর খনন ও ঘাট নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান,বৃক্ষরোপণ, গভীর ও অগভীর নলকূপ স্থাপন, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম এবং শিক্ষা কার্যক্রম।

bangladeshpost24.com

Previous articleমহাসড়কের জমি ব্যাংকে দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ
Next articleবাংলাদেশ-ডেনমার্ক কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর