অনলাইন ডেস্কঃ নোয়াখালী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকা থেকে তাসনিয়া হোসেন অদিতা নামের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের দুই হাত ও গলা কাটা ছিল।

মরদেহ অর্ধ-নগ্ন থাকায় পরিবারের দাবি, তাকে ধর্ষণের পরে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশের একাধিক সংস্থা। আর ঘটনায় জড়িত থাকা সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২শে সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাহান মঞ্জিলের একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত তাসনিয়া হোসেন অদিতা ওই এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেন সরকারের মেয়ে। সে নোয়াখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

নিহতের মা রাজিয়া সুলতানা জানান, তিনি সকাল ৮টায় বের হন। স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। পাশাপাশি প্রাইভেট পড়ান। ফলে সন্ধ্যা হয়ে যায় বাসায় ফিরতে। বৃহস্পতিবারও সন্ধ্যায় ফেরেন তিনি। ফিরে এসে ঘরের মূল দরজায় তালা দেখতে পান। তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে সামনের কক্ষের আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পেলেও অদিতাকে দেখেননি।

কিছুক্ষণ পর ঘরের ভেতরের একটি কক্ষ লাগানো দেখতে পেয়ে খুলে প্রবেশ করে বিছানার ওপর অর্ধ-নগ্ন, গলা ও দুই হাতের রগ কাটা অবস্থায় অদিতার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এলাকার কিছু বখাটে দীর্ঘদিন ধরে অদিতাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতো। এ বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয় গণ্যমান্যদের জানানো হয়। গত কয়েকদিন ধরে অদিতাকে ধর্ষণ করবে বলে বাড়ির সামনে এসে তাকে হুমকি দিতো কয়েকজন।

তিনি ঘরে না থাকার সুযোগে কেউ ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে অদিতাকে ধর্ষণ করে গলা ও হাতের রগ কেটে হত্যা করে ঘর লুটপাট করেছে।

জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আকরামুল হাসান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অদিতাকে ধর্ষণের পরে গলা ও হাতের রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনায় জড়িত থাকা সন্দেহে ৩ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

 

Bangladeshpost24.com

Previous article১৪ বছর পর এরদোয়ানের সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
Next articleসংবিধান নির্বাহী বিভাগের অধীন হয়ে পড়েছেঃ আ স ম রব