অনলাইন ডেস্কঃ নাটোরের নলডাঙ্গায় ছাত্রলীগকর্মী জামিউল আলীম জীবনের মৃত্যুর ঘটনায় নলডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শনিবার (২৪শে সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস শুকুর ও সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মুকু স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে বহিষ্কার করার কথা বলা হয়েছে।

নলডাঙ্গা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মুকু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বহিষ্কার হওয়া আসাদুজ্জামান উপজেলা আওয়ামী লীগের ১ নম্বর সদস্য এবং নলডাঙ্গা উপজেলার চেয়ারম্যান।

উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় প্যাডে বহিষ্কার আদেশে বলা হয়েছে, ‘গত ১৯শে সেপ্টেম্বর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক জামিউল আলিম জীবন ও তার বাবাকে আপনি (উপজেলা চেয়ারম্যান) আপনার সন্ত্রাসী ভাইদের নিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছেন। এর ফলে জীবন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ২৩শে সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা ২০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন। যেহেতু আপনি নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত দলীয় চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের ১ নম্বর সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত, দায়িত্বপূর্ণ পদে থেকে হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ করেছেন যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় গঠনতন্ত্রের সম্পূর্ণবিরোধী এবং দলীয় শৃঙ্খলাভঙের শামিল। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করায় ২৪শে সেপ্টেম্বর থেকে আপনাকে নলডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সব শাখার প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য বহিষ্কার পত্রের অনুলিপি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত সোমবার (১৯শে সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার রামশাহকাজিপুর আমতলী বাজারে জীবন ও তার বাবা ফরহাদ হোসেনকে ডেকে নিয়ে যান উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান। এসময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসাদ ও তার সহযোগীরা বাবা-ছেলেকে পিটিয়ে জখম করে। পরে দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল নেওয়া হয়। অবস্থা সংকটাপন্ন হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে মারা যান জীবন।

এ ঘটনার পরদিন আহত ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী জাহানারা বেগম বাদী হয়ে নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ, তার বড় ভাই ফয়সাল শাহ ফটিক, আলিম আল রাজি শাহ নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে নলডাঙ্গা থানায় একটি মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেন। প্রধান আসামি আসাদুজ্জামান পলাতক রয়েছে।

 

 

Bangladeshpost24.com

Previous articleক্রাইম পেট্রোল দেখে অদিতাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন কোচিং শিক্ষক
Next articleমরিয়ম মান্নানের মা ফরিদপুর থেকে জীবিত উদ্ধারঃ পুলিশ