ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্কঃ বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগকারী দেশসমূহের মধ্যে তুরস্কের অবস্থান ২৯তম। তুরস্কের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে ইতিমধ্যে ৩ কোটি ৫ লাখ ডলারের বিনিয়োগ করেছে। গত অর্থবছর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩০ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলারে উন্নীতকরণে যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তুরস্ক সফররত ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ফরেন ইকোনমিক রিলেশন্স বোর্ড অব টার্কি (ডেইক) আয়োজিত ‘তুরস্ক এবং বাংলাদেশের মধ্যকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য উঠে আসে।

ঢাকা চেম্বার সূত্রে জানা যায়, ২৯ সেপ্টেম্বর ইস্তাম্বুলের স্থানীয় একটি হোটেলে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডেইকের চেয়ারম্যান অনুর ওজডেন বলেন, গত কয়েক দশক যাবৎ বাংলাদেশের বিকাশমান অর্থনীতি দেশটিকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় দেশে পরিণত করেছে এবং তুরস্কের উদ্যোক্তাবৃন্দ বাংলাদেশে নিজেদের ব্যবসাবাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে অত্যন্ত আগ্রহী। দ্বিপক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে তিনি বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিবৃন্দের মধ্যকার যোগাযোগ আরো বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান বলেন, ব্যবসা ও বিনিয়াগের জন্য বাংলাদেশ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ, চামড়া, কৃষি প্রভৃতি খাতে বেশ অগ্রগতি করেছে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারও অনেক বড়। যা বিবেচনায় নিয়ে তুরস্কের উদ্যোক্তাবৃন্দ এখানে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে পারে।

রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, গত অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার এবং সামনের দিনগুলোতে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরো বলেন, তুরস্কের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে, আরো প্রতিষ্ঠান সেখানে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগ আরো বৃদ্ধিতে অবকাঠামোর উন্নয়ন, ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজতরকরণ ও নীতিমালার সংস্কারের ওপর জোরারোপ করেন।

তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ মান্নান বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীতকরণে যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এক্ষেত্রে দুই দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ আরো বৃদ্ধি করতে হবে। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান তার বক্তব্যে বলেন, পর্যটন খাতে তুরস্কের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অনেক বেশি এবং বাংলাদেশের পর্যটন খাতের অবকাঠামো উন্নয়নে তুরস্কের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে পারে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে তিনি বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিবৃন্দের সমন্বয়ে ‘জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব করেন। তিনি বাংলাদেশের শিল্প খাতের আধুনিকায়নে তুরস্কের প্রযুক্তি সহায়তা প্রদান, এসএমই খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, যৌথ গবেষণা কার্যক্রম এবং এগ্রো ভ্যালু চেইনের উন্নয়নে তুরস্ককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

Bangladeshpost24.com

Previous articleলক্ষ্মীপুরে গুলিতে যুবলীগ নেতা নিহত, প্রতিবাদে নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ
Next articleএকটি গোষ্ঠী সড়ক আইনকে দুর্বল করতে চাচ্ছে