অনলাইন ডেস্কঃ বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীদের শীর্ষ বৈঠকের এক দিন পর যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করা হয়েছে। এ ঘোষণার কয়েকটি দিকের ওপর আলোকপাত করা যেতে পারে।

অভিন্ন কুশিয়ারা নদী নিয়ে হওয়া সমঝোতা স্মারক বড় চুক্তি না হলেও তা ইতিবাচক হিসেবেই দেখব। কারণ, ১২ বছর পর যৌথ নদী কমিশনের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর এটা হয়েছে। তবে দুই দেশের নদীর পানির তথ্য-উপাত্ত বিনিময়ের যে প্রক্রিয়া চলমান, তা শেষ হওয়া দরকার।

৩০ বছর ধরে এটা হচ্ছে। এখন বাস্তবসম্মত কিছু কাজ করা জরুরি। তবে সবকিছু চূড়ান্ত করে ১১ বছর ধরে তিস্তা ঝুলে থাকা তো মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিস্তার ব্যাপারে এবার কোনো আশ্বাসও দেওয়া হয়নি। যে আশ্বাস আগের দুই যৌথ ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিয়েছিলেন। এবার তিনি কিছু বলেননি। তিস্তা যে হিমঘরে চলে গেছে, এবারের যৌথ ঘোষণায় তার প্রতিফলন আছে।

দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের শীর্ষ বৈঠকের পর যৌথ ঘোষণায় সংযুক্তির ক্ষেত্রে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। অথচ সব কটি প্রস্তাব কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝখানে।

এখানে শুধু বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের মধ্যে গাড়ি চলাচল) মোটরযান চুক্তির উল্লেখ করা হয়েছে। ভুটানের জন্য এটি আটকে আছে অনেক দিন ধরে। বাকি তিন দেশ যখন একমত, এটি বাস্তবায়নে বাধা কোথায়? রেলের উন্নয়নে বেশ কিছু ইতিবাচক দিক আছে। এ ক্ষেত্রেও সেটি মূলত বাংলাদেশ ও ভারতকে ঘিরে। অর্থাৎ সংযুক্তিতে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু নেই।

ভারত থেকে বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। এটা এই মুহূর্তেও বহাল রয়েছে। বাংলাদেশের চাওয়াটা সহজে অনুমেয়। যেহেতু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বড় সরবরাহটা ভারত থেকে আসে, হঠাৎ বন্ধ হলে বাংলাদেশে প্রবল সংকট তৈরি হয়।

এটা যাতে না হয়, ভারত চেষ্টা করবে বলেছে। দুই পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে সতর্ক বার্তা পেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়। ভারতের ফসল নষ্ট হচ্ছে, আগেভাগে এই তথ্য জানলে আমরা চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারি। আমার কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে।

সীমান্তে একটি মৃত্যুও গ্রহণযোগ্য নয়। উভয় পক্ষ চেষ্টা করবে বলে যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে। এখানে উভয় পক্ষের তো কিছু করার নেই। বিজিবি তো গুলি করে লোক মারে না। ভারতকেই এটা করতে হবে। ভারতের যদি সঠিক ও শক্ত রাজনৈতিক নির্দেশনা থাকে, মাঠপর্যায়ে তাহলে এটি বন্ধ হবে।

ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) ভালো উদ্যোগ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এ ধরনের চুক্তিতে ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্ত রেখেই সেটা করতে হবে। তাঁদের পাশ কাটিয়ে কিছু করা ঠিক হবে না।

 

লেখকঃ মো. তৌহিদ হোসেন, সাবেক পররাষ্ট্রসচিব

মতামত সূত্রঃ প্রথম আলো

 

Bangladeshpost24.com

Previous articleপ্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর অভিনব কিছু নয়
Next articleআকাশে টম ক্রজের ভয়ংকর স্টান্ট