অনলাইন ডেস্কঃ রাজধানীর রমনা এলাকার ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মাহবুবুর রহমান রানা হত্যার ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ইকবাল হোসেন তারেক (৩৮) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল ওই এলাকার ডিস ব্যবসার দ্বন্দ্ব। এরই জের ধরে রানাকে হত্যা করা হয়।

ঘটনাটি ২০১৪ সালের। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয় ১৪ জনকে। এরমধ্যে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চারজন পলাতক ছিলেন। তাদের একজন ইকবালও। তাকে বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

শুক্রবার (২৩শে সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতার ইকবাল সুইফ ক্যাবল লিমিটেড নামের একটি ডিস ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মচারী। সেই প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন কামরুল ইসলাম এবং তানভিরুজ্জামান রনি। তাদের সাথে নিহত মাহবুবুর রহমান রানার ব্যবসায়িক বিরোধ ছিল।

এই বিরোধ নিয়ে এক পক্ষ আরেক পক্ষের ডিসের ক্যাবল কেটে দিতো। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায়ই মারামারিও হতো। সেই ঘটনার জের ধরে ২০১৪ সালের ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় রানাকে হত্যা করা হয়।

সেদিনের ঘটনা বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার দিন নিহত মাহবুবুর রহমান রানা মোটরসাইকেলে মগবাজার চৌরাস্তা থেকে মসজিদের পাশের গলিতে আসছিলেন। পথে বাটার গলির মুখে তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তার মুখে ও মাথায় এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন হত্যাকারীরা। এসময় স্থানীয় লোকজন সাহায্যের জন্য এগিয়ে এলে তারা বোমা ফাটিয়ে এবং গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা রানাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি তাজা বোমা ও রক্তমাখা চাপাতি উদ্ধার করে।

আলোচিত এই ঘটনায় রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। কিন্তু আসামি ছিল অজ্ঞাত। সেই মামলায় ২০২০ সালের ১৭ নভেম্বর গ্রেপ্তার ইকবালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

র‌্যাব জানিয়েছে, ইকবালের বাড়ি চাঁদপুরে। তবে বাল্যকাল কেটেছে যশোরে। সেখানকার একটি স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে ঢাকায় আসেন। স্কুলজীবন থেকে মাদকে আসক্ত ছিলেন তিনি। ২০১১ সাল থেকে রানা হত্যাকাণ্ডের আগ পর্যন্ত তিনি সুইফ ক্যাবল লিমিটেড নামের ডিস ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। সেখানেই গাঁজা ছেড়ে ইয়াবায় আসক্ত হন। চাকরির পাশাপাশি তিনি মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।

সংস্থাটি আরো জানায়, ২০১১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি মাদকসহ গ্রেফতার হন। তার গ্রেপ্তারে নিহত রানার হাত ছিল সন্দেহ করে সেই ক্ষোভ থেকে তাকে হত্যা করেন বলে ইকবাল জিজ্ঞাসাবাদে জানান। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি তার নিজ বাড়ি চাঁদপুর এলাকায় চাষাবাদ করতেন। পরে যশোর গিয়ে মাদক ব্যবসা শুরু করেন।২০১৯ সালে ঢাকায় এসে বিভিন্ন গার্মেন্টস থেকে পরিত্যক্ত কার্টুন সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন। পাশাপাশি তিনি আবার মাদক ব্যবসা শুরু করেন। মাদকসহ তিনি একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। তার নামে হত্যা ও মাদকসহ চারটি মামলা রয়েছে। তিনি ঘনঘন নিজ বাসস্থান পরিবর্তন করতেন। সবশেষ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় মাদক কারবারিদের মাধ্যমে তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর র‌্যাবের গোয়েন্দা দলের জালে তিনি ধরা পড়েন।

 

 

Bangladeshpost24.com

Previous articleমুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত বাংলাদেশ-কম্বোডিয়া
Next articleবাংলাদেশে বড় বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী