Home প্রতিবেদন - মতামত - কলাম টাকার মান কমল ৪৫ পয়সা

টাকার মান কমল ৪৫ পয়সা

টাকার মান

বাংলাদেশ পোষ্ট ২৪ ডটকম: বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমিয়েছে। প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময়মূল্য ২৫ পয়সা বাড়িয়ে ৮৬ টাকা ৪৫ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে রপ্তানিকারক ও প্রবাসীরা লাভবান হবেন। অন্যদিকে আমদানিকারকদের খরচ বাড়বে।

এর আগে জানুয়ারি মাসের শুরুতে ডলারের বিনিময়মূল্য ২০ পয়সা বাড়িয়ে ৮৬ টাকা করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর ২৩ মার্চ তা আবার ২০ পয়সা বাড়িয়ে ৮৬ টাকা ২০ পয়সা করা হয়েছিল। ফলে প্রায় এক মাসের ব্যবধানে দুই দফায় টাকার মান কমাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যাংকাররা বলছেন, ঈদের কারণে দেশে প্রবাসী আয় আসা কিছুটা বেড়েছে। তবে আমদানি যে হারে বেড়েছে, প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয় দিয়ে সেই খরচ মেটানো যাচ্ছে না। ফলে ডলার নিয়ে দেশের মুদ্রাবাজারে এখন অস্থিরতা বিরাজ করছে।

ব্যাংকাররা বলছেন, ডলারের সংকট শিগগিরই কমার কোনো লক্ষণ নেই। এ সংকটের প্রভাব পড়ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গচ্ছিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। পাশাপাশি ব্যাংকব্যবস্থায় নগদ টাকারও সংকট দেখা দিয়েছে। কারণ, বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বিক্রি করে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে। এতে চলতি হিসাবে লেনদেন ভারসাম্যেও ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন আমদানি খরচ অনেক বেড়ে গেছে। সেই তুলনায় প্রবাসী আয় খুব বেশি বাড়েনি। যে কারণে ব্যাংকব্যবস্থা ও খোলাবাজারে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ বাড়ছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) আমদানি বেড়েছে ৪৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। গত বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় গত ফেব্রুয়ারিতে আমদানি বেড়েছে ৪৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। এতে ডলারের চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়েছে। আর অর্থবছরের জুলাই-মার্চ—এই ৯ মাসে প্রবাসী আয় কমেছে ১৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। আর এ সময়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। এতেও ডলারের চাহিদা মিটছে না। এ কারণে প্রতিনিয়ত ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকার ও আমদানিকারকেরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের চাহিদা বেশ বেড়েছে। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিদিন ডলার বিক্রি করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত জুলাই থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত রিজার্ভ থেকে ৪৬০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ব্যাংকগুলোর খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। এই পুরো টাকা ব্যাংকব্যবস্থা থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে চলে গেছে। এর ফলে অনেক ব্যাংক সাময়িকভাবে তারল্য সংকটে পড়েছে। সাময়িক এ সংকট মেটাতে ব্যাংকগুলো কল মানি বাজার ও অন্য ব্যাংকের রেপোর ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক যে দামে ডলার বিক্রি করে, সেটাকেই ডলারের আনুষ্ঠানিক দাম হিসেবে ধরা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক গত বুধবার থেকে ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সায় ডলার বিক্রি শুরু করেছে। আর ব্যাংকগুলোতে ডলার কেনাবেচা হচ্ছে গড়ে ৮৮-৮৯ টাকায় ডলার কেনাবেচা করছে। সেই দামে আমদানি বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। খোলাবাজারে অবশ্য ডলারের বিনিময়মূল্য ৯০ টাকা ছাড়িয়েছে বেশ আগেই।

এদিকে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) বিল পরিশোধ ও ডলার বিক্রির ফলে রিজার্ভও কমছে। ফলে ২০ এপ্রিল রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪১৮ কোটি ডলারে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, টাকার মান আরও কমালে তাতে রেমিট্যান্স তথা প্রবাসী আয় এবং পণ্যসেবা রপ্তানি আয় বাড়বে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো অর্থনীতিতে।

প্রসঙ্গত, গত জানুয়ারি থেকে প্রবাসী আয়ের ওপর আড়াই শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার, যা আগে ছিল ২ শতাংশ। এরপর থেকে বৈধপথে প্রবাসী আয় আসা কিছুটা বেড়েছে। তবে তা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কম।

bangladeshpost24.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here