অনলাইন ডেস্কঃ জনগণের প্রতিপক্ষ হয়ে ঘৃণিত না হতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেছেন, জোরজবরদস্তি করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। জনগণের প্রতিপক্ষ হয়ে ঘৃণিত হবেন না। একবার ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ২১ বছর ক্ষমতায় আসতে পারেননি। এবার যেই অত্যাচার-নিপীড়ন করছেন এটা বন্ধ না হলে আর কত একুশ বছর লাগবে সেটা কে জানে।

শুক্রবার বিকেলে মোহাম্মদপুর ৪০ ফুট মেইন রোডে এক সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা উত্তর বিএনপির মোহাম্মদপুর জোনের উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আগামী দিনের যে লড়াই, সেই লড়াইয়ে অবশ্যই অবশ্যই আমরা জয় হব ইনশাআল্লাহ। আমরা গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বলতে চাই সবাইকে নিয়েই আমরা নির্বাচন করতে চাই। জনগণ ঠিক করবে কে ভালো, কে মন্দ, কাকে দায়িত্ব দেওয়া যাবে কাকে দেওয়া যাবে না। আপনারা এই সুযোগটা গ্রহণ করুন, ভুল করবেন না। সন্দেহ হয় যে ভালো কথা শোনার লোক তারা (আওয়ামী লীগ) নয়।

বরাবর গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে জনগণ সবসময়ই সঙ্গে আছে দাবি করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের কর্মীদেরকে খুন করা হচ্ছে তাতে কি বিএনপির জনসভায় বা আন্দোলনে জনগণের উপস্থিতি কম রয়েছে? লোক কমছে? কমেনি কখনো, এটাই ইতিহাস।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, লড়াইতো করতেই হবে আপনাদের, আন্দোলন সংগ্রাম করতে হবে। রাজপথের আন্দোলন সংগ্রাম যেটা বলেছেন আমাদের নেতা তারেক রহমান। যে ফয়সালা হবে রাজপথে সেই রাজপথে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা বিনা ভোটে অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে আছেন। আপনারা চলে যান, পদত্যাগ করুন, এই সংসদ বাতিল করে দেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করুন। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন হবে, তাদের মাধ্যমে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে জনগণ যাকে ভোট দেবে তারাই সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। তারা হবে জনগণের সরকার।

‘যে সরকার আজকে ক্ষমতায় বসে আছে তারা বলেছিল দশ টাকা কেজি চাউল খাওয়াবে। আজকে চাউলের দাম কমপক্ষে ৫০ টাকা। তারা বলেছিল ঘরে ঘরে চাকরি দেবে, কিন্তু রেকর্ড কি বলে এই সরকারের দুঃশাসনের কারণে নতুন করে সরকার সমর্থক কয়েক হাজার কোটিপতি হয়েছে। কিন্তু প্রায় ৪ কোটি বাংলাদেশের মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে’—যোগ করেন তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ১৯৭৫ সালে আজকে যারা ক্ষমতায় তারা গণতন্ত্রকে জবাই করে এক দলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেই বাকশালের গোরস্থানের ওপর বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। ১৯৮২ সালে গণতন্ত্রকে হত্যা করে স্বৈরাচারী এরশাদ ক্ষমতা দখল করেছিল। গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল। নয় বছর লড়াই করে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের পুনরায় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন।

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, গণতন্ত্র জবাই করে তারা (আওয়ামী লীগ) ফিরে আনে বিএনপি, জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া। আরেকবার আপনারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন। আজ সেই গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী দিনে আরেকবার ওই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে। জিয়াউর রহমান একবার গণতন্ত্র পূর্ণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। খালেদা জিয়া একবার গণতন্ত্র পূর্ণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এবার তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে ইনশাআল্লাহ।

সমাবেশে বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে অংশ নেন। এ সমাবেশে অনেকে বাঁশের লাঠি নিয়েও অংশ নিয়েছেন।

বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে সমাবেশে যাঁরা অংশ নিয়েছেন, তাঁরা লাঠিতে বাংলাদেশের পতাকা বেঁধে রেখেছেন। এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাঁরা রাজি হননি।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আহবায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী,

সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন, বিএনপি নেতা নাজিমুদ্দিন আলম, তাবিথ আউয়ালসহ উত্তরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

 

 

Bangladeshpost24.com

Previous articleবিএনপি ফাইনাল খেলার প্লেয়ার নাঃ আমু
Next article‘শাওনের কপালে গভীর ক্ষত, মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায় মগজ’