ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্কঃ রাতে গোলাম রব্বানী ছোটন দুই চোখের পাতা নাকি এক করতে পারেননি। পারবেন কী করে! দিনের পর দিন, বছরের পর বছর যে স্বপ্ন মুঠোয় পুরবেন ভেবে অক্লান্ত ছুটেছেন, তা যে ধরা দিয়েছে অবশেষে। সানজিদা আক্তারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল উদযাপনের কথা। এই উইঙ্গারের উত্তর, ‘মাঠে নেচেছি, গাড়িতে উঠে নেচেছি, হোটেলে ফিরে নেচেছি…সারা রাত কেটেছে এভাবে।

কেক কাটা হয়েছে, কেউ গান গেয়েছে; যে যেভাবে পারে আনন্দ করেছে। ’টিম ম্যানেজমেন্ট থেকেও এদিন ‘যা খুশি তা করো’র ছাড়পত্র দেওয়া ছিল।

ক্যারিবীয় ক্রিকেটার ডোয়াইন ব্রাভোর ‘চ্যাম্পিয়ন’ গানের তালে নেচে টিকটক মাতিয়েছেন। কাঠমাণ্ডুতে পা রাখার পর থেকে পায়ে ফুটবল আর মাথায় প্রতিপক্ষ—এর বাইরে যেতে পারেননি মেয়েরা। প্রায় ২০ দিনের লম্বা সফর। লড়াই, চাপ, প্রস্তুতি, উত্তেজনা—পরশু সন্ধ্যার পর থেকে এসব উবে গেছে জয়ের আনন্দে।

কাঠমাণ্ডুতে গতকাল সারা দিন তাই নির্ভার, আনন্দময় কাটিয়েছেন সাবিনা-কৃষ্ণারা। সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা আর স্তুতিতে ভাসছেন তাঁরা। সকালে হোটেল লবিতে মোবাইল হাতে সেসব উপভোগ করতেও দেখা গেছে সানজিদাদের। দল বেঁধে এরপর কেনাকাটা করতে বেরিয়েছেন। যেখানেই গিয়েছেন, নেপালিদের কাছে উষ্ণ অভিনন্দনই পেয়েছেন মেয়েরা। সন্ধ্যায় কাঠমাণ্ডুর বাংলাদেশ দূতাবাসে সংবর্ধনা ও নৈশ ভোজে অংশ নিয়েছেন। সেখানেও হয়েছে আরেক দফা গান, নাচ। আজ দুপুরে ট্রফি নিয়ে ঢাকা ছোঁবেন তাঁরা। দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে বিমানবন্দরে পৌঁছার কথা সাবিনাদের।

গতকালই বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের ছাদ খুলে চ্যাম্পিয়নদের প্যারেডের জন্য তৈরি রেখেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। বিমানবন্দরে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বরণ করবেন তাঁদের। মেয়েরা এরপর ট্রফি নিয়ে সেই বাসে চড়ে আসবেন মতিঝিলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ভবনে। সেখানে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন আরেক দফা বরণ করবেন তাঁদের। সেই বাস বিমানবন্দর থেকে বনানী, মহাখালী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দিয়ে বিজয় সরণি উড়ালসেতু দিয়ে বাঁয়ে চলে যাবে। তেজগাঁও, কাকরাইল, ফকিরাপুল, আরামবাগ হয়ে ফুটবলাররা পৌঁছবেন বাফুফে ভবনে।

সানজিদা তাঁর আবেগঘন এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে ছাদ খোলা বাসে উদযাপনের প্রসঙ্গ এনেছিলেন। লিখেছিলেন—তেমন কিছু না হলেও চলবে, শুধু যাঁরা কঠিন সময়ে মেয়েদের ফুটবলের পাশে ছিলেন, তাঁদের জন্যই ট্রফিটা জিততে চান। সানজিদারা সেই ট্রফি ঠিকই উপহার দিয়েছেন। এরপর ছাদ খোলা বাসে উদযাপন না হলে কি চলে! আজ তাই পথে পথে চ্যাম্পিয়নদের বরণের দিন।

 

Bangladeshpost24.com

Previous articleকেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে মিলল নবজাতকের মরদেহ
Next article‘অনিবার্য কারণে’ দিনাজপুর বোর্ডের ৪ পরীক্ষা স্থগিত