বাংলায় সংবাদ 🔊

অনলাইন ডেস্কঃ গণতন্ত্র মঞ্চের আত্মপ্রকাশ ‘ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে’র সাফল্য হিসেবে দেখছেন নজরুল ইসলাম খান। জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সমন্বয়ে গঠিত ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ এর আত্মপ্রকাশের বিষয়ে শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘‘ গণতন্ত্র মঞ্চের আত্মপ্রকাশকে আমরা স্বাগত জানাই। তারা যেসব দাবি উল্লেখ করেছেন, এই দাবিগুলো আমরাও দীর্ঘদিন যাবত করে আসছি , এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে পারে না, সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ বাতিল করতে হবে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে, নির্বাচন কমিশন পূনর্গঠন করতে হবে- এই সবগুলো কথা তাদের দাবিতে আছি আমরা দেখলাম।’’
‘‘ কাজেই আমি মনে করি যে, এটা আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের যে প্রয়াস দীর্ঘদিন ধরে আমরা চালিয়ে আসছে সেটা আর একটা সাফল্য।আগামীদিনে আরো ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের পক্ষে এটা একটা অগ্রগতি বলে আমরা মনে করি।”
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাতটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে গঠিত ‘গণতন্ত্র মঞ্চে’র আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব।
সোমবার যুব দলের সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য বলেন, যে প্রক্রিয়ায় আপনারা আন্দোলন করছেন তাতে এই সরকারের পতন সম্ভব নয়। সরকার পতন আন্দোলন সফল করতে হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়ার আহ্বান জানান তারা।এ প্রসংগে প্রশ্ন করা হলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘‘ আপনারা জানেন যে, ২০১৪-১৫ সালের দিকে কী আন্দোলন হয়েছে! প্রয়াত সাংবাদিক এবিএম মুসা বলেছিলেন যে, এটা এখন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নয়, এটা গণপ্রজাতন্ত্রী ঢাকা সরকার। কারণ গোটা বাংলাদেশের ওপর এই সরকারের আর কোনো প্রভাব নাই।”
‘‘ তারপরেও অনেক মন্ত্রীরা আছেন তারা বলেন, আমরা নাকি আন্দোলন করতে পারি না। এখন তারা আন্দোলন করতে যা বুঝেন এগুলো যদি সবাই বুঝতে চান তাহলে আমরা বিপদের মধ্যে আছি। আন্দোলন মানে হচ্ছে জনগনের সংঘবদ্ধ প্রতিবাদ-প্রতিরোধ।সেটা হরতালের মাধ্যমে হতে পারে, আরো বিভিন্ন মাধ্যমে হতে পারে এবং মনে রাখতে হবে যে, আমরা শ্লোগান দিতে পারি না তা নয় কিন্তু যখন-তখন দেবো কেনো? আমরা হরতাল করি না বা করতে পারি না তা নয় কিন্তু যখন তখন করব কেনো? আমরা অবরোধ এর আগে করি নাই বা করতে পারি নাই তা নয় কিন্তু যখন তখন করবো কেনো? যখন করার সিদ্ধান্ত হবে আপনারা জানতে পারবেন। ইনশাল্লাহ আমরা মনে করি, জনগনের মধ্যে যে ক্ষোভ-বেদনা, যে বিক্ষোভ কাজ করছে এবং সরকার অযোগ্যতা, রাষ্ট্র পরিচালনায় যে ব্যর্থতা-অক্ষমতা এর বিরুদ্ধে যে মগ সংগঠিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেভাবে সংগঠিত হচ্ছে তাদের আগামী দিনে যখনই আমরা কোনো কর্মসূচি দেবো তাতে জনগন সম্পৃক্ত হবে।”
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে বিএনপির বৃহত্তর প্ল্যাটফর্ম গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘‘ আপনারা সাংবাদিক মানুষ আপনারা ভালো জানেন এটা। এই ব্যাপারগুলো আলোচনার মাধ্যমে হয় এবং এটা আগে থেকে বুঝা গেলে পরে এটা ব্যর্থ করে দেয়ার লোক আছে। সেজন্য আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি এবং খুব শিগগিরই আপনারা জানতে পারবেন।”


‘‘ যেসব কথা শুনছেন এগুলোর কথার কোনো অর্থ নাই। মানুষ যখন ভয় পায়, অন্ধকারের মধ্যে রাত্রে হাটতে গেলে জোরে জোরে গান গায়। এটা এই কারণে যে, তারা ভয় পাচ্ছে। ওদের কথায় বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। বড় বিপদে আছে তারা।”
শুক্রবার সকাল ১১টায় নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আশুরা উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হয়। দোয়া মাহফিলের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাব দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

bangladeshpost24.com

Previous articleট্রাম্পের বাসায় এফবিআইয়ের তল্লাশি
Next articleভারত এশিয়া কাপের দল ঘোষণা করলো