অনলাইন ডেস্কঃ ভারতের রাজধানীতে আগেই ভীত শক্ত করেছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল আম আদমী পার্টি (আপ)। ইতোমধ্যে পাঞ্জাবের ক্ষমতায় এসেছে দলটি। এবার পশ্চিমবঙ্গে সংগঠন শক্তিশালী করার ভাবনা বাস্তবে প্রমাণ করতে চলেছে আপ।

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার দক্ষিণে স্থায়ী রাজ্য দফতর খুলতে চলেছে আপ। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে রবিবার (২৫শে সেপ্টেম্বর) দপ্তরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত আপের কেন্দ্রীয় নেতা সঞ্জয় বসু। আপ সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে আনন্দবাজার।

আপ নেতা সঞ্জয় জানিয়েছেন, শনিবার তিনি কলকাতায় আসবেন। রবিবার দপ্তর উদ্বোধনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমে জেলায় জেলায় আমরা শক্তি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি জেলায় সংগঠন শক্তিশালী হয়েছে। একটা রাজ্য দফতর জরুরি হয়ে পড়েছিল। অনেকদিন ধরেই ভাল জায়গার খোঁজ চলছিল। শেষ পর্যন্ত রাজ্যে যারা দায়িত্বে রয়েছেন তারা সেটি চূড়ান্ত করেছেন।’

আপ সূত্রে জানা গিয়েছে, এতদিন রাজ্য দপ্তর না থাকলেও বিভিন্ন জেলায় দলের দপ্তর রয়েছে। দুর্গাপুর, মেদিনীপুর, কোচবিহার শহরে স্থায়ী দফতরও হয়েছে। এবার রাজধানী শহর কলকাতায় হচ্ছে আপের দফতর।

স্থায়ী ঠিকানা তৈরি হয়ে গেলেও এখনই পশ্চিমবঙ্গের দিকে কেজরিওয়ালের নজর নেই বলেই জানিয়েছেন সঞ্জয়। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের পাখির চোখ গুজরাট বিধানসভা নির্বাচন। দলের সিদ্ধান্তই রয়েছে যে, একটি একটি করে রাজ্যের দিকে নজর দেওয়া। গুজরাটে আমরা জেতার মতো জায়গায় রয়েছি। তাই এখন অন্য দিকে নজর নয়।’

একই সঙ্গে সঞ্জয় জানান, কলকাতায় দলীয় দপ্তর হয়ে গেলেও গুজরাটের ভোট মেটার আগে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল কলকাতায় আসছেন না।

এখনই নজর না থাকলে রাজ্য দফতর খোলার কারণ কী? সঞ্জয় বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বহু মানুষ আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চাইছেন। কিন্তু কলকাতায় একটা স্থায়ী ঠিকানা না থাকলে সমস্যা হচ্ছিল। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দফতর বানানোর ছাড়পত্র দেয়।’

তবে কি পঞ্চায়েত নির্বাচনে আপকে ভোটের ময়দানে দেখা যাবে না? সঞ্জয় বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছি যে, যেখানে সংগঠন থাকবে সেখানে লড়াই হবে। আবার শুধু সংগঠন থাকলেই হবে না। যেখানে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যাবে সেখানেই আমরা লড়ব।’

আর লোকসভা নির্বাচনে? সঞ্জয়ের জবাব, ‘লোকসভা নির্বাচনের আগে অনেক সময় রয়েছে। তার আগে গুজরাতের নির্বাচন। সেখানে সাফল্য মেলার পরে লোকসভা নির্বাচনের পরিকল্পনা হবে।’

এখনও উল্লেখযোগ্য সংগঠন তৈরি করতে না পারলেও পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই তৎপর আপ নেতৃত্ব। পাঞ্জাব জয়ের পরেই বিভিন্ন জেলার জন্য আলাদা আলাদা ফোন নম্বর তৈরি হয়। সেখানে আসা ‘মিস্‌ড কল’ দেখে যোগাযোগ করা হয় আপে যোগদানে আগ্রহীদের সঙ্গে।

কলকাতাসহ রাজ্যে বেশ কয়েকটি কর্মসূচি নিলেও সেভাবে সাফল্য মেলেনি। তবে এ বার রাজ্য দপ্তর হয়ে গেলে সে কাজেও গতি আসবে বলেই দাবি করছেন আপ নেতা সঞ্জয়।

 

 

Bangladeshpost24.com

Previous articleদেশে ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৫০ জন
Next articleজাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ১৫ই আগস্টের কথা স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী