ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্কঃ এবার রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করার পথে এগিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। দুই দেশই এই সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে বলে জানা গিয়েছে। খবর অনুযায়ী, রাশিয়ার থেকে বাকিতে তেল কিনবে পাকিস্তান। কিছুটা সময় নিয়ে মস্কোকে এই অর্থ পরিশোধ করবে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সাম্প্রতিক বৈঠকের পর একজন কর্মকর্তা এই কথা জানিয়েছেন।

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শরিফের প্রতিনিধি দলের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অন্তত তিনটি বৈঠক করেছেন।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এই বৈঠকগুলোর মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক এবং বাকিগুলো বেসরকারি। রাশিয়ান পক্ষের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনার সময় আমরা যা আলোচনা করেছি তা হলো ধারে তেল আমদানির সম্ভাবনা।

ওই কর্মকর্তা বলেন, রাশিয়া প্রস্তাবটি বিবেচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি বলেন যে রাশিয়া পাকিস্তানকে গ্যাস সরবরাহ করতে পারে।

রাশিয়া ভারতের অন্যতম সেরা বন্ধু এবং পাকিস্তান ক্রমাগত রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক উন্নত করছে বলে জানা গিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি হবে। কারণ পাকিস্তান উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল আমদানি করে এবং সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তানকে তেল সরবরাহ করে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বিরোধিতার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানি সরকার এই তেল আমদানির বিকল্পটি বেছে নিতে পারবে কি না তা স্পষ্ট নয়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই পাকিস্তানকে স্পষ্টভাবে রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি না করার কথা বলেনি। কিন্তু রাশিয়ার সঙ্গে এই ধরনের বাণিজ্য না করার পরামর্শ দিয়েছে তারা।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বারবার অভিযোগ করেছেন যে এপ্রিল মাসে তার অপসারণের পিছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত রয়েছে। ইমরানের অভিযোগ, তাকে একটি ‘স্বাধীন বিদেশ নীতি’ অনুসরণ করার জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার প্রচেষ্টার জন্য এই শাস্তি বলে জনিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কথা অস্বীকার করেছে।

এখন দেখার বিষয় পাকিস্তানের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক কতদূর গড়ায় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বিরোধিতার কারণে পাক সরকার বিকল্পটি অনুসরণ করতে পারে কিনা।

Bangladeshpost24.com

Previous articleপ্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ‘জুনিয়র নোবেল’ জিতলেন বুয়েটের জারীন
Next articleটেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত পেসার রুবেলের