Home রাজনীতি ইলিয়াস আলীর স্ত্রী এখনও স্বামীর অপেক্ষায়

ইলিয়াস আলীর স্ত্রী এখনও স্বামীর অপেক্ষায়

বাংলাদেশ পোষ্ট ২৪ ডটকমঃ বিএনপির নেতা এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার দশক পেরিয়ে গেলেও এখনও স্বামীকে ফিরে পাওয়ার আশায় রয়েছেন তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা।

ইলিয়াস অন্তর্ধানের দশক পূর্তিতে সোমবার বিএনপি আয়োজিত এক সভায় তিনি বলেছেন, “আমরা প্রতিটি মুহূর্ত তার ফেরার অপেক্ষায় আছি।”

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে ঢাকার বনানীতে আমতলী এলাকার কাছ থেকে গাড়িচালক আনসার আলীসহ নিখোঁজ হন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস। তাকে সরকারই ‘গুম করেছে’ বলে অভিযোগ করে আসছে বিএনপি।

তাহসিনা বলেন, “ইলিয়াস আলীকে গুম করে দেওয়ার পরে সরকার নাটক সাজাতে চেয়েছিল। খারাপ খারাপ কথা লিখে দেয়ালে পোস্টার সাঁটিয়েছিল। কিন্তু জনগণ সেটি গ্রহণ করেনি।

“এই সরকার বিএনপির মাঠের নেতা-কর্মীদের গুম করে দিয়ে এই মেসেজ দিতে চেয়েছিল যে, স্টপ হয়ে যাও। আন্দোলন করলে, কথা বললে গুম হয়ে যাবে।”

আওয়ামী লীগের এক যুগের শাসনে বিএনপির ১ হাজার নেতা-কর্মীকে গুম করা হয়েছে বলে বিএনপির অভিযোগ।

সোমবারের অনুষ্ঠানে ‘গুম-খুন’ হওয়া নেতা-কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সাইদুর রহমানের বাবা শফিকুর রহমান, মাজহারুল ইসলাম রাসেলের ভাই মশিউর রহমান লোটাস, পারভেজ হোসেনের ছোট মেয়ে আদিবা হোসেন হৃদি, নুরুজ্জামান রনির স্ত্রী মনীষা, মনির হোসেনের ভাই ওবায়দুল্লাহ হোসেন তাদের মনবেদনা ও আকুতির কথা তুলে ধরেন।

ছাত্রদল নেতা নুরুজ্জামান রনির স্ত্রী মনীষা বলেন, “একটা মানুষকে হত্যা করতে কত গুলি লাগে? আমার স্বামীর দেহে ১৭টি বুলেট পাওয়া গেছে। এই হত্যার বিচার হবে এই প্রত্যাশায় আমি সব সময় তাকিয়ে থাকি। আমি বিশ্বাস করি অবশ্যই যারা গুম করেছে একদিন তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।”

স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়া তাহসিনা বলেন, “আমার মতো …. আজকে যেসব নেতা-কর্মী গুম হয়েছে, তাদের পরিবাররা এখানে আছেন, আমি এবং বিএনপি আপনাদের পাশে আছে, পাশে থাকবে।”

অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমার মনে আছে, যখন ইলিয়াস আলী গুম হয়ে যায়, তখন আমি তার বাসায় গিয়েছিলাম। তার ছোট মেয়ে ছিল তখন ৬ বছর বয়সের। সে শূন্য একটা দৃষ্টি নিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল।

“প্রায় প্রত্যেক বছরই আমি ইলিয়াস আলীর বাসায় তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাই। এখন দেখা করতে গেলে তার মেয়ে আমাদের সামনে আসে না। অনেক কষ্ট নিয়ে আসে না। সে বলে- ‘তোমরা আস, কিন্তু আমার বাবা তো ফিরে আসে না’। এরকম অবস্থা গুম হওয়া প্রায় প্রত্যেক পরিবারের।”

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির সদস্য ফারজানা শারমিন পুতুলের সঙ্গে ইলিয়াস আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াসও ছিলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, গণ-অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া, অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ এবং বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বক্তব্য রাখেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, জ্যেষ্ঠ নেতা শাহজাহান ওমর, জয়নুল আবদিন ফারুক, শাহজাদা মিয়া, ইসমাইল জবিউল্লাহ, অধ্যাপক সাহিদা রফিক, অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম, অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, অধ্যাপক মামুন আহমেদ, শ্যামা ওবায়েদ, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর হেলাল, ফরিদা ইয়াসমীন, আবেদ রাজা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় যুক্তরাজ্য ও কানাডা দূতাবাসের কুটনীতিকরা ছিলেন।

bangladeshpost24.com

Previous articleকাম্প নউয়ে কাদিসে পরাভূত বার্সেলোনা
Next articleসাকিবকে নিয়ে আসছে নতুন দু:সংবাদ