অনলাইন ডেস্কঃ আওয়ামী লীগের বৈধতা না থাকার কারণে টিকে থাকার জন্য বন্দুক ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘বিএনপি মিছিল করলেই গুলি করা হয়। ওই বন্দুকের নল যে কোনো সময় ঘুরে যেতে পারে, তা তাদের বুঝা প্রয়োজন।’

শনিবার (২৪শে সেপ্টেম্বর) বিকালে নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের নিহত হওয়ার ঘটনা এবং জ্বালানি তেলসহ বিদ্যুৎ লোডশেডিং, গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সরকারের নানা আলোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা বলেছেন বিএনপি যদি গণভবনে আসে তাহলে চা খাওয়াবেন। কিন্তু তার পরদিনই ভোলায় দুইটা ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তার কয়েকদিন পর এক মন্ত্রী বলেছেন বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হবে না। এর পরদিনই নারায়ণগঞ্জে শাওনকে গুলি করে হত্যা করা হলো। তারা যেটা বলবে তার উল্টোটা আমাদের বিশ্বাস করতে হবে। শেখ হাসিনা যা বলবে তার উল্টো হবে, এটা বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের মনে রাখতে হবে।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কাঁদেন রোহিঙ্গাদের জন্য। বিএনপির কর্মসূচিতে গুলি করছেন আর আপনি জাতিসংঘে গিয়ে কাঁদেন। কিন্তু শাওনদের জন্য আপনার চোখ দিয়ে পানি বের হয় না।

বিএনপির আন্দোলন থামবে না জানিয়ে রিজভী বলেন, আমাদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। আপনারা একের পর এক গুলি করে মারছেন। নারায়ণগঞ্জের শাওনকে মারলেন, মুন্সীগঞ্জের শাওনকে মারলেন। শাওনদের মেরে বিএনপির আন্দোলন থামানো যাবে না। বিএনপির নেতারা পুলিশের গুলির মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। যারা ভিতু যারা অন্যের মিছিলে হামলা করে।

প্রশাসনের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, নারায়ণগঞ্জে যে শাওনকে হত্যা করা হয়েছে তা ছবিতে দেখা গেছে। পুলিশের একজন কর্মকর্তার চাইনিজ রাইফেলের গুলিতে শাওন মারা গেছেন। কিন্ত পুলিশ ভিন্ন কথা বলছে। বরং বিএনপির লোকজনের নামে মামলা হয়েছে। পুলিশকে বলবো সরকারের লেজুড়বৃত্তি করে কোনো লাভ নেই।

রিজভী বলেন, বিখ্যাত কবি হুমায়ুন আহাম্মেদ একটি উপনাস ছিলো আয়নাঘর। এখন শেখ হাসিনার একটা আয়নাঘর আছে। সেই আয়নাঘর সাজগোজের জন্য নয়। সেখানে বিরোদী দলের নেতাকর্মীদের সাজগোজ করানো হয়, তাদের নির্যাতন করা হয়। শেখ হাসিনার আয়নাঘর এখন আতঙ্কের নাম।

জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবির সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, মোস্তাফিজ রহমান দিপু, জেলার সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ সংগঠনের নেতারা।

 

Bangladeshpost24.com

Previous articleইরানের কূটনৈতিক উপস্থিতি কমানোর ঘোষণা জেলেনস্কির
Next articleঢাকায় উড়ালপথ নির্মাণে মানা হচ্ছে না নির্ধারিত মানদণ্ড