অনলাইন ডেস্কঃ নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, নতুন যে সরকারই ক্ষমতায় আসবে, তারা আওয়ামী লীগের চেয়ে ভালোভাবে দেশ চালাবে। আওয়ামী লীগ বর্তমানে যতটা খারাপভাবে দেশ চালাচ্ছে, এর চেয়ে খারাপ চালানোর সুযোগ নেই। সরকার গুলি করে মানুষ মারলেও মিছিলে মানুষ বাড়ছেই।

শুক্রবার (৩০শে সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে বাধা, হামলা-মামলা, দমন-পীড়ন, গুলি-হত্যা বন্ধের দাবিতে’ সমাবেশের আয়োজন করে গণতন্ত্র মঞ্চ। সেখানেই মাহমুদুর রহমান এসব কথা বলেন। সমাবেশে গণতন্ত্র মঞ্চের সাতটি শরিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন।

মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘এ সরকারকে রাতারাতি হটিয়ে কাউকে ক্ষমতায় বসানো যাবে না। বসাতে হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যে সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, সেখানে জনগণের দাবিদাওয়া নিয়ে নির্বাচনে যাব। সেখানে দেখা যাবে, কার গ্রহণযোগ্যতা কতখানি।’

সরকার দেশকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব। তিনি বলেন, এই সরকার ভোট ডাকাত, তাই ‘ভোট চোর’ বললে তাদের আত্মসম্মানে লাগে। তারা হেলমেট, রামদা, রাইফেল দেখে না, বিরোধীদের আনা লাঠিতে ভয় পায়।

সরকার জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বলে দাবি করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তাদের গণতান্ত্রিক ইতিহাস ভুলে গিয়ে সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। বিরোধী দলের বিরুদ্ধে পুলিশকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। মিত্রদেশগুলোও আওয়ামী লীগের বিপক্ষে বলতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারত সফর শেষে যখন দেশে ফিরলেন, তখন তাঁর মুখে হাসি নেই, কপালে ভাঁজ। ভারতসহ সব মিত্রদেশ বলছে, এই গণবিরোধী, ভোট ডাকাত, স্বৈরাচারী সরকারকে সমর্থন দিতে তারা রাজি নয়।

গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক বলেন, এই সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাম খুনির তালিকায় উঠেয়েছে, কালোতালিকাভুক্ত করিয়েছে। আগামীর আন্দোলন-সংগ্রামকে দমন করতেই কালোতালিকাভুক্ত এক কর্মকর্তাকে পুলিশের আইজিপি করা হয়েছে। ছাত্রলীগের অনৈতিক কাজকে ‘প্রটেকশন’ দিচ্ছে পুলিশ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকার জন্য সরকার দেশে সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দিচ্ছে। কোনো স্বৈরাচারী সরকারের পায়ের তলায় যখন মাটি থাকে না, তখনই পুলিশ দিয়ে গুলি করায়। এই সরকারও বেশি দিন টিকতে পারবে না।

সমাবেশের শেষভাগে জোনায়েদ সাকি আগামী দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আগামী অক্টোবর মাস থেকে গণতন্ত্র মঞ্চ দেশের প্রতিটি বিভাগে সমাবেশ করবে। ৮ই অক্টোবর ঢাকার কারওয়ান বাজারে সমাবেশের মাধ্যমে ঢাকার থানা পর্যায়ের সমাবেশ শুরু হবে। এরপর গণতন্ত্র মঞ্চ দেশের অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে রাজনৈতিক মতবিনিময় করবে।

সমাবেশে ভাসানী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাউয়ূম, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, গণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

গত ৮ই আগস্ট সাত–দলীয় জোট ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ আত্মপ্রকাশ করে। জোটভুক্ত দলগুলো হলো জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এই মঞ্চ গঠিত হয়েছে।

 

Bangladeshpost24.com

Previous articleশনিবার শুরু টাইগ্রেসদের এশিয়া কাপ মিশন
Next articleইউক্রেনকে দ্রুত ন্যাটোভুক্ত করতে জেলেনস্কির আবেদন