অনলাইন ডেস্কঃ থানা সম্মেলনে বিশৃঙ্খলা এবং কর্মীদের ‘অশালীন’ গালি দেওয়ায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরকে কেন্দ্র থেকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে।

পনের দিনের মধ্যে তাকে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।

“আজ শুক্রবার রাতে তিনি নিজে দপ্তরে এসে শোকজের চিঠি গ্রহণ করেছেন,” যোগ করেন দপ্তর সম্পাদক।

গত মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের লালবাগ থানা ইউনিটের সম্মেলনে বিশৃঙ্খলা থামাতে গিয়ে গালি দেন দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতেই সেদিন বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকটি পক্ষ।

এসময় বিশৃঙ্খলা থামাতে গিয়ে মাইক হাতে নিয়ে হুমায়ুন কবির শ্লোগান বন্ধ করতে বলার পাশাপাশি ‘…বাচ্চা’ বলে গালিও দেন বিশৃঙ্খলাকারীদের।

সম্মেলনে সেদিন নেতাকর্মীদের মধ্যে পাঁচ দফায় হাতাহাতি ও মারামারি হয়। মাইকে বারবার নির্দেশ দেওয়া হলেও থামেনি বিশৃঙ্খলা।

নোটিস দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, “লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কর্মীদের অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে সমাবেশ করার পর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তাকে শোকজ করা হয়েছে।“

লালবাগের সম্মেলনে মারামারির সময় উপস্থিত দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, “লাফালাফি, বাড়াবাড়ি করবেন না। নির্বাচনের ১৪ মাস বাকি অথচ শোডাউন দিয়ে শক্তি প্রদর্শন শুরু করেছেন। আপনারা কেউ এমপি হতে পারবেন না, নেতা হতে পারবেন না।”

এসময় কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক মারামারি থামাতে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “মারামারি থামানোর জন্য আহ্বান করছি। বিশৃঙ্খলা করবেন না, বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থামুন আপনারা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আপনাদের মাঝে এসেছে, এর গুরুত্ব উপলব্ধি করুন আপনারা।”

লালবাগের এ থানাতেই বাড়ি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের।

সম্মেলনের শুরুতে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিমের সমর্থকদের সঙ্গে হুমায়ুন কবিরের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে মারামারি শুরু হলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

দ্বিতীয় দফায় হাজি সেলিম সমর্থকদের সঙ্গে ২৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিকের সমর্থকদের মারামারি হয়।

সম্মেলন শুরু হলে আবার মারামারিতে জড়ায় হাজি সেলিমের সমর্থক, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের সমর্থক এবং সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের সমর্থকরা।

এদিকে শুক্রবার বিকাল ৩টায় চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পূর্ব নির্ধারিত তারিখ ছিল। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ওই সম্মেলন না করার নির্দেশনা দিলেও সম্মেলন স্থলে সমাবেশ করে চকবাজার থানাধীন বিভিন্ন শাখা আওয়ামী লীগ। সমাবেশ স্থলে নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

 

Bangladeshpost24.com

Previous articleসিরিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে ৭১ শরণার্থী নিহত
Next articleপ্রশ্নফাঁসঃ প্রতিটি ধাপে ‘দায়িত্বে অবহেলা’